একই মায়ের গর্ভে বেড়ে ওঠা, জন্মও হয়েছে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে, তবু দুই বোনের বাবা আলাদা। এমনই বিস্ময়কর ও আবেগঘন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন যমজ বোন মিশেল ওসবোর্ন ও লাভিনিয়া ওসবোর্ন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে একটি ঘরে বসে করা ডিএনএ পরীক্ষার ফল হাতে পেয়ে লাভিনিয়ার মনে হঠাৎই অজানা আশঙ্কা দানা বাঁধে। ফলাফল খুলতেই সামনে আসে অবিশ্বাস্য সত্য, তারা নন-আইডেন্টিক্যাল টুইন হলেও একই বাবার সন্তান নন, বরং তারা আসলে সৎবোন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় হেটেরোপ্যাটার্নাল সুপারফেকান্ডেশন, যেখানে একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয় এবং সবগুলো ভ্রূণ সফলভাবে গর্ভে টিকে থাকে। বিশ্বজুড়ে এমন ঘটনার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত, হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র।
লাভিনিয়ার জন্য এই সত্য ছিল ভেঙে পড়ার মতো। শৈশবের অনিশ্চয়তা, একের পর এক অভিভাবক বদল, সবকিছুর মাঝেও একমাত্র স্থিরতা ছিল তার যমজ বোন। 'সে-ই ছিল আমার নিশ্চিত আশ্রয়… তারপর হঠাৎ মনে হলো, সেটাও আর নেই',বলছিলেন তিনি। তবে মিশেলের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। তিনি বিস্মিত হলেও একেবারে অবাক হননি। বরং দীর্ঘদিনের সন্দেহ যেন নিশ্চিত রূপ পায়। 'অদ্ভুত, বিরল কিন্তু একভাবে এটা ঠিকই মনে হচ্ছে', বলেছেন তিনি।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, মিশেলের বাবা একজন, আর লাভিনিয়ার বাবা আরেকজন। এই সত্য সামনে আসার পর তাদের পারিবারিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় খুলে যায়, নতুন আত্মীয়, নতুন সম্পর্ক, আবার কোথাও দূরত্বও।
সবকিছুর পরও দুই বোনের সম্পর্ক অটুট। পার্থক্য যতই থাকুক, তাদের বন্ধন ভাঙার নয়। 'আমরা অলৌকিক, এই সম্পর্ক কেউ ভাঙতে পারবে না', বলেছেন লাভিনিয়া। আর মিশেলের ভাষায়, 'সে আমার যমজ বোন, এটাই চূড়ান্ত সত্য।' সূত্র: বিবিসি