‘তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু জনগণেরই’

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেছেন, 'তাইওয়ানের স্বাধীনতা' বলতে বোঝায় দ্বীপটি বেইজিংয়ের অংশ নয় এবং চীনের অধীনও নয়। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র দেশটির জনগণেরই রয়েছে। 

রোববার (১৭ মে) তাইপেতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকের পর তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমরা এমন পরিস্থিতি চাই না যেখানে কেউ বলবে,যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সমর্থন দিচ্ছে, তাই আমরা স্বাধীন হব।'
 
চীন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকিও দিয়ে আসছে বেইজিং, বিশেষ করে যদি তারা মনে করে তাইওয়ান আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার পথে এগোচ্ছে।

ভাষণে লাই চিং-তে বলেন, তার দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি ১৯৯৯ সালে যে নীতিগত প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, সেটিই এখনো দলের অবস্থান। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র, যার সরকারি নাম ‘রিপাবলিক অব চায়না’। 

তিনি আরও বলেন, তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই লঙ্ঘন বা দখল করা যাবে না এবং দেশটির ভবিষ্যৎ জনগণই নির্ধারণ করবে। দলের প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, 'সবাই স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতা বলতে আসলে বোঝানো হয় যে তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অংশ নয়।'

এ বিষয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ট্রাম্প বেইজিং সফর শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ানের জন্য অতিরিক্ত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে এখনো তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। যদিও ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে অস্ত্র সহায়তা দিতে পারে।