ফিলিস্তিনপন্থী রাজনৈতিক বক্তা হাসান পাইকারকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রাজনৈতিক বক্তা ও অনলাইন স্ট্রিমার হাসান পাইকার–কে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি ব্রিটিশ সরকার। একইসঙ্গে তার চাচা ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ‘দ্য ইয়াং টার্কস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সেংক উইগুর–এর ভ্রমণ অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে এই বিবেচনায় যে, তাদের উপস্থিতি যুক্তরাজ্যের জনস্বার্থের অনুকূল নাও হতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

হাসান পাইকার দাবি করেছেন, ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করায় তাকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা সরকারগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বদলে রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সেঙ্ক উইগুরও।

দুজনেরই লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য এসএক্সএসডব্লিউ লন্ডন–এ অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এছাড়া তারা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন–এও বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিলেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হলেও তাদের কিছু অনুষ্ঠান ভার্চ্যুয়ালি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশটিতে নতুন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা সংগঠন এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, এটি ভিন্নমত দমনের ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, অতীতে পাইকার ও উইগুরের কিছু বিতর্কিত মন্তব্য জনস্বার্থ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল।

বর্তমানে বিষয়টি যুক্তরাজ্যে বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং ইসরায়েল–ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন