ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের সময় রাশিয়ার একটি তেলবাহী ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকার আটক করেছে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী। রোববার (১৪ জুন) পরিচালিত এই অভিযানের কথা সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ‘স্মির্টোস’ নামের ট্যাংকারটি আটক করতে প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেয় রয়্যাল নেভির কমান্ডো ইউনিট, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং সহায়তা দেয় রয়্যাল এয়ার ফোর্স।
অভিযানের একপর্যায়ে জাহাজটিকে ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। পরে পুরো ট্যাংকারটি ব্রিটিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজটিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ কার্যক্রমের ওপর নজরদারির সময় সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত হওয়ার পরই অভিযান চালানো হয়।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কিয়ার স্টারমার বলেন, এই অভিযান রাশিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা। তার ভাষায়, ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যারা রাশিয়াকে সহায়তা করছে, তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে তারা কোথাও নিরাপদ আশ্রয় পাবে না।
অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড্যান জার্ভিস দাবি করেছেন, ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে তেল বিক্রি করে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থ জোগাড় করছে। তাই এ ধরনের জাহাজ শনাক্ত হলে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব জাহাজের প্রকৃত মালিকানা ও পরিচালনাকারীদের পরিচয় অনেক ক্ষেত্রেই গোপন রাখা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে এগুলোকে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হয়।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাশিয়ার মোট তেল রপ্তানির বড় অংশই বর্তমানে এই ছায়া বহরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের মতে, ৭০০-এর বেশি জাহাজ নিয়ে গঠিত এই নেটওয়ার্কে আঘাত হানতে পারলে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হবে। সূত্র: আলজাজিরা