পদত্যাগ করলেন কিয়ার স্টারমার

ব্রিটিশ রাজনীতিতে নাটকীয় এক মোড় এনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। তিনি জানিয়েছেন, শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদই নয়, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি-র নেতৃত্বও ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি।

লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে বেরিয়ে এসে করতালি ও উচ্ছ্বাসের মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন স্টারমার। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি স্মরণ করেন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসার মুহূর্তকে, যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে গর্বের দিন ছিল বলে উল্লেখ করেন।

স্টারমার বলেন, রাজনীতিতে তাঁর আসার উদ্দেশ্য ছিল লাখো মানুষের জীবন ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়া। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এমন একটি লেবার পার্টির দায়িত্ব তিনি নিয়েছিলেন, যেটিকে রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া বলে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

নিজের নেতৃত্বের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দল থেকে ইহুদিবিদ্বেষের বিষাক্ত সংস্কৃতি দূর করা হয়েছে, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে জনআস্থা পুনর্গঠন করা হয়েছে। তবে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর দল ইতোমধ্যে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

'আমি সেই উত্তর শুনেছি এবং সসম্মানে তা মেনে নিচ্ছি,' বলেন স্টারমার।

তিনি জানান, সকালে রাজা তৃতীয় চার্লস-কে নিজের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করেছেন। নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে নির্দেশও দিয়েছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন সংসদীয় বিরতির আগেই প্রক্রিয়া শেষ হবে, যাতে সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্ট পুনরায় বসার আগে নতুন নেতা দায়িত্ব নিতে পারেন।

ততদিন পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

বক্তব্যের শেষভাগে আবেগাপ্লুত হয়ে স্টারমার বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর তিনি এখন আরও বেশি সময় দিতে চান জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, স্বামী ও বাবা হিসেবে।

স্ত্রীকে 'সুখে-দুঃখে অবিচল সহযাত্রী' হিসেবে উল্লেখ করে এবং সন্তানদের 'গর্ব ও আনন্দের উৎস' বলে বর্ণনা করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি। এরপর স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে আবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরে ফিরে যান।

স্টারমারের এই ঘোষণা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের সূচনা করল, যা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: বিবিসি