ইয়েমেনে নতুন সংঘাত

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার শঙ্কা

ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করে, তবে তেলের সরবরাহ, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতি বড় সংকটে পড়তে পারে।

চার বছরের অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পরিবেশ ভেঙে সোমবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালায়। সরকারের দাবি, ইরান থেকে আসা একটি বিমানে সামরিক বিশেষজ্ঞ, ড্রোন প্রযুক্তি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম আনা হচ্ছিল। তবে হুথিদের দাবি, বিমানটিতে ২০০-এর বেশি চিকিৎসাপ্রার্থী ও ইরানে আয়োজিত প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা শেষে ফেরা একটি প্রতিনিধি দল ছিল। পরে বিমানটি হোদেইদাহে অবতরণ করে।

এই হামলার জবাবে হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হুথিরা ঘোষণা দিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সময় শেষ।

বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালী। লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা মাত্র ২৯ কিলোমিটার (১৮ মাইল) চওড়া এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ২০২৪ সালে এই পথ দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। ফলে এই রুটে অচলাবস্থা তৈরি হলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়বে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়েও উত্তেজনা চলমান। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, যদি একই সময়ে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব, দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথই বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ আটকে যেতে পারে। তখন জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলতে হবে, এতে প্রতিটি যাত্রায় ১০ থেকে ১৪ দিন অতিরিক্ত সময় লাগবে। পাশাপাশি পরিবহন ও বিমা খরচ বেড়ে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

এই পরিস্থিতি সৌদি আরবের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। দেশটি পূর্বাঞ্চলের আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে পশ্চিমের ইয়ানবু বন্দরে ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীর বিকল্প পথ তৈরি করেছে। তবে ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল রপ্তানি করতে হলেও বাব আল-মান্দেব প্রণালী খোলা থাকা জরুরি। যদি এই পথও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থাও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা