আজভ সাগরে ইউক্রেনের হামলা, রাশিয়ার রপ্তানি পথে বড় ধাক্কা

ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় এবার কাঁপছে আজভ সাগরে রাশিয়ার জাহাজ চলাচল। হামলার পর সমুদ্রপথে শস্য রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে মস্কো। একই সময়ে দুই পক্ষই একে অপরের জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোতে হামলার দাবি করেছে।

ইউক্রেনের সামরিক কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি মঙ্গলবার জানান, রাতভর ড্রোন হামলায় আজভ সাগরে রাশিয়ার ১১টি জাহাজে আঘাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি তেলবাহী ট্যাংকার, ৫টি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ এবং ১টি টাগবোট। তার দাবি, গত ৯ দিনে মোট ১১৬টি রুশ জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

এই হামলার পর রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজভ সাগর হয়ে শস্য রপ্তানির পরিবর্তে বিকল্প নৌপথ এবং প্রয়োজনে অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। তবে তারা বলেছে, এতে দেশের খাদ্য সরবরাহ বা রপ্তানি সক্ষমতায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইউক্রেনের এসব হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষায়, এসব হামলার উদ্দেশ্য শুধু ক্ষতি করা ও ভয় সৃষ্টি করা।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ২৮৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। হামলায় ক্রাসনোদার অঞ্চলের আফিপস্কি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। এছাড়া বাশকোর্তোস্তানের সালাভাত শহরের একটি শিল্প এলাকাতেও ইউক্রেনের হামলার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা কিয়েভ, ওডেসা অঞ্চলের বন্দর অবকাঠামো এবং ইউজনি বন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেতেনচুক জানান, ওডেসার কাছে একটি বেসামরিক জাহাজে রুশ হামলা হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা রাশিয়ার ছোড়া ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা