যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর ছয় বছর পর আবারও যুক্তরাজ্যে ফিরতে যাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স চলতি মাসের শেষ দিকে লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠতে পারেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। খবরটি এসেছে রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর, ফলে তাঁদের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, হ্যারি-মেগানের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকেও আসন্ন শিক্ষাবর্ষের জন্য ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আর্চির বয়স এখন সাত বছর, আর লিলিবেটের পাঁচ।
হ্যারি-মেগানের এই প্রত্যাবর্তনের খবর রাজপরিবারের কাছেও আকস্মিক ছিল। রাজা তৃতীয় চার্লস গত রোববার প্রথমবারের মতো তাঁদের পুনরায় যুক্তরাজ্যে বসবাসের পরিকল্পনার কথা জানতে পারেন। অর্থাৎ জুলাইয়ে হ্যারি, মেগান ও তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে রাজার পারিবারিক সাক্ষাতের সময় বিষয়টি আলোচনা হয়নি।
তবে রাজা চার্লস এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সন্তানদের কাছাকাছি থেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবে তিনি বিষয়টিকে দেখছেন। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট, হ্যারি ও মেগানের রাজপরিবারের ভূমিকা পরিবর্তন হচ্ছে না। তাঁরা আগের মতোই ব্যক্তিগত ব্যক্তি এবং রাজপরিবারের অ-কর্মরত সদস্য হিসেবে থাকবেন।
২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে উত্তর আমেরিকায় চলে যান হ্যারি ও মেগান। এরপর থেকেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্ণবাদ, অনলাইন হয়রানি এবং পারিবারিক জটিলতাকে তাঁদের যুক্তরাজ্য ছাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তাঁরা।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন জীবন শুরু করেন এই দম্পতি। রাজপরিবার থেকে দূরে থাকলেও হ্যারি বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্য এবং ২০২৩ সালে বাবা রাজা চার্লসের অভিষেকেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
তবে বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় দীর্ঘ বিরতিও তৈরি হয়েছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে হ্যারির ইংল্যান্ড সফরের সময় ১৯ মাস পর প্রথমবার সরাসরি বাবার সঙ্গে দেখা হয় তাঁর।
সম্পর্কে কিছুটা উষ্ণতার ইঙ্গিত পাওয়া যায় চলতি বছরের জুলাইয়ের পারিবারিক সাক্ষাতে। সে সময় রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা গ্লুচেস্টারশায়ারের হাইগ্রোভ হাউসে হ্যারি, মেগান ও তাঁদের দুই সন্তানকে আতিথেয়তা দেন। চার বছর পর সেটিই ছিল পুরো পরিবারের একসঙ্গে দেখা হওয়ার ঘটনা।
হ্যারির ওই সফরের একটি বড় কারণ ছিল তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইনভিক্টাস গেমসের কার্যক্রম। আহত সেনাসদস্য ও সাবেক সেনাদের জন্য আয়োজিত প্যারালিম্পিক ধাঁচের এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরবর্তী আসরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন দাতব্য কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
তবে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে হ্যারির উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁর জন্য সরকারি অর্থায়নে নিরাপত্তার মাত্রা কমিয়ে দেওয়ার ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তকে তিনি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। মামলায় হেরে গত বছর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি ভেঙে পড়েছেন এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরাকে প্রায় অসম্ভব মনে করছেন।
এখন সেই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাজ্যে ফিরে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন হ্যারি-মেগান। তবে তাঁদের প্রত্যাবর্তন রাজকীয় দায়িত্বে কোনো প্রত্যাবর্তন নয়; বরং রাজপরিবারের বাইরে থেকে ব্রিটেনে নতুন করে পারিবারিক জীবন গড়ার উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সাসেক্স দম্পতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: সিএনএন