যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারানো ব্যক্তি সেখানে প্রবেশের আগে গান শুনতে শুনতে নাচছিলেন বলে দাবি করেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। শনিবারের (১০ অক্টোবর) ওই ঘটনায় বাঘটি লোকটির ঘাড়ের কাছে পোশাক কামড়ে ধরে তুলে ফেলে বলে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে। প্রাণঘাতী আক্রমণের সময় লোকটিকে ‘না, না’ ও ‘থামো’ বলে চিৎকার করতেও শোনা যায়। তবে কী কারণে তিনি বাঘের খাঁচায় ঢুকেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী মারি মিলার জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি ওই যুবককে বাঘের খাঁচার ওপরের সেতুতে দেখেছিলেন। তার কানে হেডফোন ছিল এবং তিনি গান শুনতে শুনতে নাচছিলেন। মিলারের ভাষ্য অনুযায়ী, লোকটিকে বাঘ দেখতে বেশ আনন্দিত মনে হচ্ছিল। তিনি একপর্যায়ে অপরিচিত এক দর্শনার্থীকে বাঘকে পেছনে রেখে নিজের ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধও করেন। তবে ছবির জন্য অনুরোধকারী ব্যক্তিই হামলায় নিহত ব্যক্তি কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা প্যান্ট ও গাঢ় নীল রঙের ওপরের পোশাক পরা এক ব্যক্তি দুই হাত কাঁধ বরাবর ছড়িয়ে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। এরপর বাঘটিকে পেছন দিক থেকে এগিয়ে এসে তার গলার কাছের পোশাক কামড়ে ধরে মাটি থেকে তুলে ফেলতে দেখা যায়। এতে লোকটি পড়ে যান। পরে বাঘটি তার ডান কাঁধের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় লোকটিকে উঠে বসতে এবং দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে আক্রমণের সময় লোকটিকে বারবার ‘না, না’ ও ‘থামো’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। এ সময় আশপাশের দর্শনার্থীরাও আতঙ্কে চিৎকার করছিলেন। একজনকে বাঘটিকে অন্যদিকে মনোযোগী করার চেষ্টা করতে ‘এই’ বলে ডাকতে শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও আক্রমণটি কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল, তা জানা যায়নি। ভিডিওতে লোকটির হাতের ভঙ্গি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ সেটিকে শেখার প্রতিবন্ধকতা থাকা ব্যক্তিদের যোগাযোগে ব্যবহৃত মাকাটন পদ্ধতির একটি সংকেত বলে ধারণা করেছেন। তবে এই ব্যাখ্যারও কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে ডনকাস্টারের ওই বন্যপ্রাণী পার্কে জরুরি সেবাদানকারী দল পৌঁছায়। সেখানে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু লোকটিকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর পার্কের কর্মীরা দ্রুত দর্শনার্থীদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেন এবং কালো ত্রিপল দিয়ে আক্রমণের পরের দৃশ্য আড়াল করেন। আরেক দর্শনার্থী টিয়া হ্যানসন জানান, ঘটনাস্থলে অনেক পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সকর্মী ছিলেন। সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে অনেককে বিচলিত দেখাচ্ছিল।
ঘটনার পর ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববারও পার্কটি বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পার্কের কর্মীদের মানসিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় কিংবা তিনি কীভাবে বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে, হামলায় জড়িত বাঘটিকে মেরে ফেলা হবে না বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। আলতাই নামের বাঘটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নরওয়ের ডাইরপার্কেন চিড়িয়াখানা থেকে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে আনা হয়েছিল। নরওয়েতেই তার জন্ম। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পরও বাঘটিকে মেরে ফেলার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
২০০৯ সালে চালু হওয়া ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের ‘ল্যান্ড অব দ্য টাইগার্স’ অংশটি খোলা হয় ২০১১ সালে। এটি সাইবেরীয় বাঘের জন্য নির্মিত প্রায় দুই একর আয়তনের বিশেষ সংরক্ষিত এলাকা। সাইবেরীয় বাঘ বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী; বন্য পরিবেশে এদের সংখ্যা প্রায় ৫০০ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ