অবরোধে শ্বাসরুদ্ধ ইয়েমেনের তাইজ, বন্ধ ১২০ হাসপাতাল

ইয়েমেনের তাইজ শহর ও প্রদেশে অবরোধের কারণে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সেখানে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করতে না পারায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য খাত। জ্বালানি সংকটে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তাইজ থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক হাদিল আল-ইয়ামানি জানান, অবরোধের কারণে শহরটিতে এখনো খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করতে পারছে না। আহত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসা ও পরীক্ষাগারের দ্রবণ এবং স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাত থেকে জরুরি সহায়তার জন্য বারবার আবেদন জানানো হচ্ছে।

প্রদেশটির গভর্নরও অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২০টি হাসপাতাল ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেগুলো আর কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছে না। আরও ৬০টি হাসপাতাল একই পরিণতির মুখে রয়েছে। বর্তমানে অল্পসংখ্যক হাসপাতাল সীমিত সক্ষমতায়, অর্থাৎ স্বাভাবিক সামর্থ্যের অর্ধেক নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি সংকটে হাসপাতালের কার্যক্রম

হাসপাতালগুলোর জন্য জ্বালানি এখন বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম চালাতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব জেনারেটর চালু রাখতে সার্বক্ষণিক জ্বালানি প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালগুলোর মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রদেশটির বাসিন্দারা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা ইউনিটগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

কিডনি, হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি জরুরি বিভাগের রোগী এবং তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এমন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত চিকিৎসাসামগ্রী ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।