হ্যাকারদের এক বিশাল ‘গোপন আর্মি’ গড়ে তুলেছে উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি দেশটির হ্যাকারদের বিরুদ্ধে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইনান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের বড় ‘অভিযানের’ পর হ্যাকারদের রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রদান করে থাকে। খবর রয়টার্সের।
উত্তর কোরিয়া ছেড়ে পালানো কয়েকজন ব্যক্তি ও বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বমানের হ্যাকারদের এই বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রতি বছর মাধ্যমিক পর্যায়ের সেরা ২০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার প্রকৌশল বিদ্যা অধ্যয়নের জন্য বেছে নেয়া হয়।
তাদের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈধ জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে যাত্রা শুরু করে এই হ্যাকাররা। পরে তাদের একটি ছোট অংশ বিশ্বসেরা সাইবার হামলায় নেতৃত্ব দেয়।
২০০৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার আগে উত্তর কোরিয়া সরকারের হয়ে হ্যাকারদের প্রশিক্ষণ দেয়া কিম হুং-কোয়াং বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে তারা কিম জং উনের গোপন অস্ত্রগুলোর অন্যতম। বিশ্বে এমন কোনও দেশ নেই যারা হ্যাকার তৈরির উদ্দেশ্যে এভাবে পদ্ধতিগতভাবে সেরা শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের সাইবার ক্যাডার হিসেবে গড়ে তোলে। সংশ্লিষ্ট শিশুটি হ্যাকার হতে চায় কি না, সেটি সেখানে কোনও বিবেচ্য বিষয় নয়।’
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান বাইনান্স সাম্প্রতিক সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করলেও পিয়ংইয়ং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ব্লকচেইনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এই হামলার পেছনে ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামে পরিচিত একটি উত্তর কোরীয় হ্যাকার গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেছে।