দিল্লি-শিমলা পুলিশ মুখোমুখি, রাত ১টায় বসলো আদালত 

ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং হিমাচল প্রদেশ পুলিশের মধ্যে এক নজিরবিহীন সংঘাত ও নাটকীয় পরিস্থিতির অবসান হয়েছে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর। যুব কংগ্রেসের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে আদালতের হস্তক্ষেপে মিটমাট হয়।

গত সপ্তাহে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা করে স্লোগান লিখে প্রতিবাদ জানান যুব কংগ্রেসের (আইওয়াইসি) তিন কর্মী। তারা হলেন— সৌরভ সিং, আরবাজ খান এবং সিদ্ধার্থ অভধূত। এই ঘটনার তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হিমাচল প্রদেশের শিমলা জেলার রোহরু এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে দিল্লি ফেরার পথে সোলান জেলার ধরমপুর এলাকায় হিমাচল প্রদেশ পুলিশ দিল্লি পুলিশের গাড়িগুলো আটকে দেয়। হিমাচল পুলিশের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ আন্তঃরাজ্য গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ‘ট্রানজিট রিমান্ড’ নেয়নি এবং স্থানীয় পুলিশকে না জানিয়েই এই অভিযান চালিয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, হিমাচল পুলিশ দিল্লি পুলিশের ১৫-২০ জন সদস্যকে প্রায় ৫ ঘণ্টা ‘আটক’ করে রাখে এবং তাদের ৩টি সরকারি গাড়ি জব্দ করে। এমনকি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণ, বেআইনি আটক ও চুরির অভিযোগে মামলাও দায়ের করে হিমাচল পুলিশ।

দিনভর আইনি টানাপোড়েন ও দুই পক্ষের বাগবিতণ্ডার পর বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অভিযুক্তদের শিমলার একটি আদালতে হাজির করা হয়। গভীর রাতে বিশেষ শুনানির পর আদালত দিল্লি পুলিশের ‘ট্রানজিট রিমান্ড’-এর আবেদন মঞ্জুর করেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৬টার দিকে দিল্লি পুলিশ অবশেষে অভিযুক্ত তিন কংগ্রেস কর্মীকে নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয়। 

দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের দিল্লিতে নিয়ে এসে স্থানীয় আদালতে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে।