চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান কঠোরভাবে বজায় রাখতে ইরানিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।
প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে জানান, চলতি মার্চের ৪ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত জিবুতির একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে আসা আটটি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ ও অবস্থানের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কা সরকার কোনো পক্ষকে সামরিক সুবিধা না দেওয়ার নীতি থেকে সেই আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।
পার্লামেন্টে তিনি আরও জানান, একই সময়ে ইরানও তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজের জন্য কলম্বো বন্দরে যাত্রাবিরতির অনুমতি চেয়েছিল। দিসানায়েকে বলেন, ‘আমরা যদি ইরানের অনুরোধে ‘হ্যাঁ’ বলতাম, তবে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রকেও অনুমতি দিতে হতো। কিন্তু আমরা আমাদের নিরপেক্ষ অবস্থানে অনড় থেকেছি এবং কাউকেই ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিইনি।’ প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে লঙ্কান আইনপ্রণেতারা করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে ইরানের ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’-তে মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো হামলা চালালে অন্তত ৮৪ জন নাবিক নিহত হন। সেখান থেকে ৩২ জনকে উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী। তবে এর পরদিন ২১৯ জন ক্রু নিয়ে আসা ইরানের আরেকটি জাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’-কে মানবিক কারণে কলম্বো বন্দরে আশ্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে স্পষ্ট করেন যে, সেটি ছিল কেবল প্রাণ বাঁচানোর খাতিরে, যুদ্ধের কোনো কৌশলগত সমর্থনের জন্য নয়।
কূটনৈতিকভাবে কলম্বোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরান-উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার প্রধান রপ্তানি বাজার, অন্যদিকে শ্রীলঙ্কান চায়ের বড় ক্রেতা হলো ইরান। বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কোনো এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে না পড়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই কলম্বোর মূল লক্ষ্য।