ক্লাসে ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেন সহকারী অধ্যাপক

ভারতের কর্ণাটকের তুমকুরে অবস্থিত শ্রী সিদ্ধার্থ মেডিকেল কলেজে এক সহকারী অধ্যাপক ক্লাসে এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। এমন ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ওই অধ্যাপককে মারধর করে। এমন পরিস্থিতিতে কলেজটিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরেমেশ্বরার মালিকানাধীন কলেজটির কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এক শিক্ষার্থীর ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল বলছেন ‘তোমাদের ব্যাচের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা আমি উপেক্ষা করতে পারিনি, তাই তোমাদের ব্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মেয়েকে আমি প্রস্তাব দিতে চাই… এবং পুরো ব্যাচকে আমি চকলেট বিতরণ করব।’ এরপর তিনি ওই ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে ‘আই লাভ ইউ’ বলেন।

ওই শিক্ষক মঞ্চ থেকে নামার পর ছাত্রীটি তার মুখোমুখি হয়ে প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আব্দুল দাবি করেন, ওই ছাত্রীই আগে তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিল এবং তার কাছে এর প্রমাণও রয়েছে।

তিনি ওই ছাত্রীকে বলেন, ‘তুমি কি আমাকে আই লাভ ইউ বলোনি?’ জবাবে ওই ছাত্রী বলে, ‘আমি কখন আপনাকে এমন প্রস্তাব দিয়েছি?’ এরপর মেডিকেল শিক্ষক বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ আছে।’

প্রমাণ দেখাতে বললে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল তোমার সঙ্গে কথা বলব।’ এরপর তিনি প্রমাণের বিষয়ে কিছু জানাননি। তবে পরদিন কথা বলার এমন প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানায় ছাত্রীটি। এরপর শিক্ষার্থীদের চকলেট নিতে বলে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যান সহকারী অধ্যাপক।

ঘটনাটির খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং ওই শিক্ষককে ঘিরে ধরে। উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ছাত্রী জুতা দিয়ে সহকারী অধ্যাপককে আঘাত করছেন এবং অন্য শিক্ষার্থীরাও তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করছেন। ক্যাম্পাসজুড়ে ধাওয়া করে তার গাড়ির কাছেও আবার মারধর করা হয় আব্দুলকে।

মারধরে আহত হলেও তিনি ঘটনাস্থল থেকে কোনোভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এনডিটিভি বলছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।