নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র শাহ

নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন শাহ’ নামে পরিচিত। শুক্রবার (২৭ মার্চ) নেপালের প্রেসিডেন্ট ভবন ‘শীতল নিবাসে’ এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। 

প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল তাকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে হিন্দু পুরোহিত ও বৌদ্ধ লামাদের প্রার্থনা ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে এক অনন্য আবহ তৈরি করা হয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে ‘জেন-জি’ (Gen-Z) প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৫ মার্চ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বালেন শাহের মাত্র তিন বছর বয়সী দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৮২টিতে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, নেপালের ঐতিহ্যবাহী বড় দল নেপালি কংগ্রেস মাত্র ৩৮টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির কমিউনিস্ট পার্টি মাত্র ২৫টি আসন পেয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

বালেন শাহ কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন। পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বালেন প্রথমে একজন র‌্যাপার হিসেবে নেপালের তরুণ প্রজন্মের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পান। ২০২২ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে চমক দেখান। প্রথাগত গণমাধ্যমের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই তিনি বেশি সক্রিয়। ফেসবুকে তার সাড়ে তিন কোটির বেশি অনুসারী রয়েছে।

বালেন শাহের দল আরএসপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট করেছে যে, তারা দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে ‘ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্ক’ বজায় রাখবে। নেপালের তরুণ সমাজ মনে করে, দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দলগুলো দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে, আর বালেন শাহই সেই পরিবর্তনের আসল কাণ্ডারি।

গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অলি পদত্যাগে বাধ্য হন। সেই আন্দোলনের ফসল হিসেবেই আজকের এই নতুন নেপালের জন্ম হলো।সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট