পাকিস্তান কাতার নয়, কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে ছাড় নেই: ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি 

ইরানের রাজধানী তেহরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান সরকার-সংশ্লিষ্ট সামরিক গবেষণা সংস্থা ‘পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম’ এক কড়া বিবৃতিতে তেল আবিবকে সতর্ক করে বলেছে, ‘ইসরায়েল যেন মনে রাখে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের সামান্যতম ক্ষতি হলেও আমরা তার কঠোর জবাব দেব।’

বিবৃতিতে ইসলামাবাদ স্পষ্ট করেছে যে, কাতার বা অন্য দেশগুলো কূটনীতিকদের ওপর হামলা মুখ বুজে সহ্য করলেও পাকিস্তান তা করবে না। পারমাণবিক শক্তিধর এই দেশটি নিজেদের কূটনীতিক ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে যখন একের পর এক মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলা চলছে, তখন পাকিস্তানের এই কড়া অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।

গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কয়েক দফা বড় ধরনের হামলা চালায়। এর মধ্যে কিছু বিস্ফোরণ পাকিস্তান দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের অত্যন্ত কাছে ঘটে। যদিও এতে দূতাবাসের কোনো ভৌত ক্ষতি বা কোনো কূটনীতিক আহত হননি, তবে বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। ইসলামাবাদ বিষয়টিকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যদিকে ইরানের মধ্যে একটি ‘শান্তি করিডোর’ তৈরির চেষ্টা করছে। তারা ওয়াশিংটনের ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব তেহরানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানি সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের দাবি, পাকিস্তান যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে, তা ইসরায়েলের পছন্দ নয়। তাই ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে পাকিস্তানকে এই শান্তি উদ্যোগ থেকে সরিয়ে দিতেই দূতাবাসের আশেপাশে পরিকল্পিতভাবে বোমা ফেলা হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আলোচনার পরিবেশ ঠিক রাখতে পাকিস্তান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিল যেন ইসরায়েল তাদের ‘হিটলিস্ট’ থেকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফের নাম সরিয়ে নেয়। ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত তা করতে বাধ্য হয়।