মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যয় কমাতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজের নীতি চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, নতুন এই নির্দেশনা সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা এবং সরকার-সংশ্লিষ্ট বড় বড় কোম্পানিগুলোর (GLC) কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন বা দিকনির্দেশনা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
মালয়েশিয়া সরকার বর্তমানে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বা ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত) ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় এবং এর সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করতেই আমরা কর্মীদের যাতায়াত কমিয়ে বাসা থেকে কাজ করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বুদি মাদানি ৯৫’ কর্মসূচির আওতায় গ্রাহকদের জন্য প্রতি মাসে ২০০ লিটার জ্বালানির কোটা নির্ধারণ। এছাড়া সাবাহ, সারাওয়াক ও লাবুয়ানে ভর্তুকিযুক্ত ডিজেল ব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ‘পেট্রোনাস’ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতির আগে আরও খারাপ হতে পারে। এই সংকট থেকে পুনরুদ্ধারের সময়কাল দীর্ঘ হতে পারে, তাই আমাদের এখন থেকেই সতর্ক ও সাশ্রয়ী হতে হবে।’ সূত্র: আল জাজিরা।