বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি পাচার রোধে মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী ৮০টিরও বেশি পেট্রোল স্টেশনে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা ‘বারনামা’ সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাচারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দেশটির পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহদ খালিদ ইসমাইলকে তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পুলিশ সদস্য মোতায়েনের জন্য, যাতে পেট্রোল স্টেশনগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা যায়।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্তবর্তী পেট্রোল স্টেশনগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি স্থায়ী নয়। বর্তমান সংকট পরিস্থিতি কেটে গেলে এ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হবে। তিনি পদাং বেসারে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, কোয়ারেন্টাইন ও নিরাপত্তা (আইসিকিউএস) কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। মন্ত্রিসভার নির্দেশনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হয়।
বারনামার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর আগে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল জানিয়েছিলেন, সীমান্তবর্তী পেট্রোল স্টেশনগুলোতে একাধিক গ্রেফতার অভিযানের তথ্য পর্যালোচনা করে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব তথ্য দেশটির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন) মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এ নজরদারি কার্যক্রমে পুলিশের অংশগ্রহণ তাদের নিয়মিত দায়িত্ব—মাদক, ট্রাফিক ও বাণিজ্যিক অপরাধ দমনকে প্রভাবিত করবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত পণ্যের পাচার রোধে প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে।
বারনামা আরও লিখেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কেদাহ, পারলিস ও পেরাকসহ জেনারেল অপারেশন ফোর্সের নর্দান ব্রিগেডের আওতাধীন এলাকায় জ্বালানি ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত পণ্য পাচারের মোট ৭৩৫টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যার জব্দকৃত পণ্যের মূল্য ২.৮১ বিলিয়ন রিঙ্গিত।
এছাড়া এসব ঘটনায় মোট ১ হাজার ৪৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।