যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে তা বাড়ানোর ঘোষণার পেছনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সক্রিয় ভূমিকা সামনে এনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষায়, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আহ্বান জানানো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকায় ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং আসিম মুনির, যা ইঙ্গিত দেয়, ইসলামাবাদ কেবল আঞ্চলিক নয় বৈশ্বিক কূটনীতিতেও এখন দৃশ্যমান এক খেলোয়াড়।
১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তবে বহুল প্রত্যাশিত এই বৈঠক শেষ হয় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই, যেন কূটনৈতিক অচলাবস্থার আরেকটি অধ্যায়।
ঠিক এখানেই দৃশ্যপটে প্রবেশ করেন আসিম মুনির। বৈঠকের অচলাবস্থা কাটাতে তিনি সরাসরি তেহরান সফরে যান যা যুদ্ধ শুরুর পর কোনো আঞ্চলিক সামরিক নেতার প্রথম এমন পদক্ষেপ। এই সফরে তিনি ওয়াশিংটন ও তেহরানের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করেন, এক ধরনের ‘শ্যাডো ডিপ্লোমেসি’ চালিয়ে যান পর্দার আড়ালে।
বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তাকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লেখ করায় মুনিরের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্থান হঠাৎ নয়, এর শিকড় খুঁজতে হবে এক বছর আগের কাশ্মির সংঘাতে। সেই সময়কার কৌশলগত অবস্থান, সামরিক প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার দৃশ্যমান ভূমিকা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি এনে দেয়।
কাশ্মিরের সংঘাত থেকে শুরু করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট, দুই ভিন্ন ভূরাজনৈতিক মঞ্চে নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার এই ধারাবাহিকতাই আজ আসিম মুনিরকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সীমা পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল কূটনীতিতেও তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে্ম যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতের আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণে তিনি হয়ে উঠতে পারেন এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সূত্র: আলজাজিরা