মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বিরুদ্ধে প্রতিবেদন: ২ সাংবাদিকের জেল

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর বিরুদ্ধে আনা ব্যক্তিগত অভিযোগ সংক্রান্ত এক প্রকাশনা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১২ মে) মালেতে একটি ফৌজদারি আদালত ‘আধাধু’ সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহজান এবং লিভান আলি নাসিরকে যথাক্রমে ১৫ ও ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টস’ (আইএফজে) বুধবার এই কারাদণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একইসঙ্গে ‘কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে) সাংবাদিকদের এই দণ্ডকে ‘তদন্তমূলক সাংবাদিকতাকে অপরাধী করার শাস্তিমূলক প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ‘আইশা’ নামের একটি তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে, যা গত ২৮ মার্চ আধাধুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ৪৭ বছর বয়সি, তিন সন্তানের জনক এবং বিবাহিত প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে এক সাবেক সহযোগীর কথিত যৌন সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ধরেছিল সেই তথ্যচিত্র। যদিও প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু এই অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
 
তথ্যচিত্রটি প্রকাশের পর গত এপ্রিল মাসে পুলিশ আধাধুর কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় সাংবাদিকদের ল্যাপটপ, বিপণন কর্মী ও প্রশাসকদের যন্ত্রাংশসহ হার্ড ড্রাইভ এবং পেন ড্রাইভ জব্দ করা হয়। আধাধুর দাবি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের কথিত গভীর রাতের ফোন কল নিয়ে প্রশ্ন তোলায় শাহজানকে এবং ফৌজদারি আদালতের জারি করা প্রকাশনা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রতিবেদন করায় নাসিরকে কারারুদ্ধ করা হয়।
 
গত সোমবার প্রসিকিউটরদের অনুরোধে আদালত এই প্রকাশনা নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আদেশ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের খ্যাতির অধিকার রক্ষার সাংবিধানিক বিধান উল্লেখ করে অভিযোগ, বিচার ও চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে যেকোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আলোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
 
আধাধু কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, বিচার প্রক্রিয়া গোপনে সম্পন্ন হয়েছে এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়। সাংবাদিকদের আইনি পরামর্শ নেয়ার জন্য মাত্র দুই ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছিল এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি।
 
রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় আধাধু জানিয়েছে, ‘আমাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতির সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য সাংবাদিকদের কারারুদ্ধ করা হলো।’