ভূমিকম্পে নাতিকে বাঁচাতে ঢাল হলেন দাদি: সেই ভিডিও ভাইরাল

দক্ষিণ ফিলিপাইনে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলার মাঝেও এক পশলা মানবিকতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে চারপাশ যখন প্রচণ্ডভাবে কাঁপছে, তখন এক বৃদ্ধা মুহূর্তের মধ্যে নিজের নিরাপত্তার কথা বিন্দুমাত্র না ভেবে তার নাতিকে বুকে জড়িয়ে ধরে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করছেন। শিশুটিকে আগলে রাখার এই দৃশ্য লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তাকে ‘সুপারহিরো দাদি’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। বিপদের মুহূর্তে কোনো দ্বিধা ছাড়াই শিশুটিকে রক্ষা করার এই দৃশ্যকে অনেকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতার সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করছেন। 

ভূমিকম্পের সময় ওই বৃদ্ধার চেহারায় তীব্র আতঙ্ক থাকলেও, তার শরীরের ভাষা বলে দিচ্ছিল— তার একমাত্র অগ্রাধিকার ছিল নাতির জীবন রক্ষা করা। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি শিশুটিকে বুকের ভেতর ঢেকে ফেলেন, যেন নিজের শরীরকেই ঢাল বানিয়ে ফেলেছেন ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘কী ভয়াবহ ভূমিকম্প! আশা করি সবাই নিরাপদ আছেন।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘নিজে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হলে বোঝা যায় না, তিনি কী করেছেন। এটা বোকামি নয়, এটা ছিল মুহূর্তের সেরা সিদ্ধান্ত।’ আরও একজন লিখেছেন, ‘এই ভিডিওটা সরাসরি দেখলে বোঝা যায় ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প কতটা ভয়াবহ। এমন মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়া সত্যিই শ্রদ্ধার যোগ্য।’

সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় খুব ভোরে ফিলিপাইনের সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২.৪ মাইল) দূরে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং এর প্রভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র কম্পন অনুভূত হয় পুরো মিন্দানাও অঞ্চলজুড়ে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যায়। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে অঞ্চলটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প তুলনামূলক বেশি ঘটে।

ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কবার্তা জারি করা হয়। একই সাথে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয় এবং মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।