পাকিস্তানের আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তবে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং অঞ্চলটির উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিজে তদারকি করে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ জয়ী হলে তাকে আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে অনুরোধ জানাবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মুজাফফরাবাদে পিএমএল-এনের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নওয়াজ শরীফ বলেন, আজাদ কাশ্মীর এবং ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা রয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও আজাদ কাশ্মীর সেই গুরুত্ব পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নওয়াজ বলেন, ‘পাকিস্তানজুড়ে মোটরওয়ে, মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু ৩০ বছর আগে মুজাফফরাবাদে যে সড়ক ছিল, এখনও মানুষ সেই সড়কই ব্যবহার করছে। কোহালা থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত এখনও কেন একটি মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়নি?’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তার শাসনামলে আজাদ কাশ্মীরের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দারের সময় ঝিলম নদীর তীরঘেঁষে মানসেহরা, মুজাফফরাবাদ ও মিরপুরকে সংযুক্ত করে একটি মোটরওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নওয়াজের ভাষায়, এটি ছিল পাকিস্তানের অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী উন্নয়ন প্রকল্প এবং আজাদ কাশ্মীরের মানুষের জন্য পিএমএল-এনের উপহার।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পুরো অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠত এবং সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতো। তার দাবি, আজাদ কাশ্মীর ও পাকিস্তানের অন্য কোনো প্রদেশের মধ্যে তিনি কখনো বৈষম্য করেননি।
নওয়াজ বলেন, ‘আমার কাছে আজাদ কাশ্মীর পাঞ্জাবের মতোই প্রিয়। এটি আমার দ্বিতীয় বাড়ি। আমার পূর্বপুরুষরা কাশ্মীর থেকে এসেছিলেন।’
তিনি জানান, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজকে কাশ্মীরের মানুষের জন্য একটি বিশেষ ‘উপহার’ নিয়ে আসতে বলেছেন। তার ভাষায়, যেমন কেউ কারও বাড়িতে গেলে মিষ্টি বা ফল নিয়ে যায়, তেমনি কাশ্মীরের মানুষের জন্যও একটি উপহার থাকা উচিত।
তিনি বলেন, পিএমএল-এন সরকার গঠন করতে পারলে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আর দল নির্বাচনে জয়ী হলে তাকে আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী করার জন্য শেহবাজ শরীফের কাছে অনুরোধ জানাতে চান।
নওয়াজ বলেন, ‘আমি যদি এখানে প্রধানমন্ত্রী হই, তাহলে আজাদ কাশ্মীরের সব সমস্যা ও দুর্ভোগ দূর করব।’
তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন, প্রধানমন্ত্রী না হলেও স্থানীয় নেতৃত্বকে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের নির্দেশ দেবেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালাকোটসহ বিভিন্ন শহর সফর করে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিজে তদারকি করবেন।
তিনি আরও জানান, পাঞ্জাব সরকারের উদ্যোগে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মুজাফফরাবাদে ১০টি সবুজ বাস পৌঁছাবে। পাশাপাশি শিগগিরই সেখানে বৈদ্যুতিক বাস চলাচল শুরু হবে। এছাড়া আজাদ কাশ্মীরের জন্য ১৫টি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল দেওয়া হবে, যা দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বর্তমান স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থার কথা তুলে ধরে নওয়াজ বলেন, অসুস্থ মানুষকে এখনও খাটিয়ায় করে সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়, এরপর ইসলামাবাদে পাঠানো হয়। পথে অনেকের মৃত্যু হয়। এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজ সরকারের সময়ে শুরু হওয়া মোটরওয়ে প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ সরকার পরিবর্তনের কারণে থেমে যাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন নওয়াজ। তিনি বলেন, সেসব প্রকল্প চলমান থাকলে শুধু শেষই হতো না, বরং আরও সম্প্রসারিত হতো। মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়াটাই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।
নওয়াজ শরীফ বলেন, আজাদ কাশ্মীরের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আর সময় নষ্ট করা উচিত নয়। তার অভিযোগ, পরবর্তী সরকারগুলো উন্নয়নকাজের বদলে শুধু স্লোগান ও আবেগনির্ভর বক্তব্য দিয়েছে, যা পাকিস্তানের ক্ষতি করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আবার ক্ষমতায় ফিরলে হারিয়ে যাওয়া সবকিছু পুষিয়ে দেব।’
একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, একদিন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিক থেকে মুজাফফরাবাদ ইসলামাবাদ, লাহোর, করাচি, পেশোয়ার ও কোয়েটাকেও ছাড়িয়ে যাবে।