ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ২ শিক্ষার্থী

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে মঙ্গলবার বন্দুক হামলায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহতদের একজনই হামলাকারী। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত দুই মাসেরও কম সময়ে দেশটিতে স্কুলে এ ধরনের এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা।

জাম্বোয়াঙ্গা শহরে বেসরকারি পরিচালনাধীন আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সংযুক্ত একটি স্কুলে এ হামলা হয়। পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলাকারী স্কুল ক্যাম্পাসে একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল নিয়ে প্রবেশ করে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গুলি চালানোর পর সে আত্মহত্যা করে। হামলায় নিহত অপর শিক্ষার্থী ছিল তার চেয়ে এক শ্রেণি ওপরে পড়ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট এরনাল্ড আন্দাল জানিয়েছেন, স্কুলে আর কোনো সক্রিয় হামলার ঘটনা নেই। নতুন করে কেউ নিহত বা আহত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো ঘটনা ঘটুক, তা চাই না। আমাদের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

এর আগে গত জুনে তাকলোবান সিটির একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একই স্কুলের দুই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে গুলি চালালে অন্তত তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়।

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। দেশটিতে অস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে বেশ কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার আগে আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং মানসিক সক্ষমতা পরীক্ষা দিতে হয়। তবে দেশটিতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এখনো রয়েছে।

নিউজ চ্যানেল এএনসি প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের ফটকের বাইরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জড়ো হয়েছেন। সেখানে সশস্ত্র পুলিশ ও সেনাসদস্যদেরও দেখা যায়। পরে অপরাধ তদন্তকারী দলের সদস্যদের স্কুলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

স্কুলটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ হেক্টর (১৯ দশমিক ৮ একর) জায়গাজুড়ে নির্মিত পাঁচতলা ভবনটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক ও জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়।

ব্যাংককে রাজধানীর উপকণ্ঠের একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক নিয়ে তাণ্ডব চালানোর বহুল আলোচিত ঘটনার ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ফিলিপাইনে এ হামলা হলো।