নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯, নিখোঁজ ১৪০০

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশটির আট জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। একই সময়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০-তে পৌঁছেছে বলে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১৩২টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। এ ছাড়া নাওয়ালপরাসি পূর্বে ৮২, ধাদিংয়ে ৩৩, নাওয়াকোটে ২৮, গোরখায় ৩০, তানাহুনে ২২, রাসুওয়ায় ১৭ এবং নাওয়ালপরাসি পশ্চিমে ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারের কাজও চলছে।

হিমালয় অঞ্চলে হঠাৎ সৃষ্ট এই বন্যায় নেপালের পাশাপাশি তিব্বতের গিরং এলাকাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত পাহাড়ি নদীতে নেমে এসে গ্রাম, সড়ক ও সেতু ভাসিয়ে নেয়। প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং বহু সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো ও উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় তাদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষও কাজ করছে।

এদিকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি নুওয়াকোট জেলার বিদুর ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বন্যায় বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক দ্রুত খুলে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো যত দ্রুত সম্ভব পুনরুদ্ধারের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। শতাধিক মানুষকে ইতোমধ্যে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতু এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকাজ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় জীবিতদের খুঁজে বের করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার। সূত্র: আলজাজিরা