নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনায় সীমান্তবর্তী উত্তরপ্রদেশের জেলাগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। নেপাল থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদীগুলোর পানির স্তর ও প্রবাহ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে সতর্কতা এবং উদ্ধার ও ত্রাণদল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল থেকে পানি আসা গণ্ডকসহ অন্যান্য নদী ও জলপ্রবাহের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আকস্মিকভাবে পানির স্তর বেড়ে গেলে যাতে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপালে একটি নদীর প্রবাহে বরফ ও পাথরের ভূমিধসে বাধ সৃষ্টি হওয়ার পর আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে দেশটির বিভিন্ন জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৬ জন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন।
বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও সেতু ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।
মহারাজগঞ্জে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। তারা গণ্ডক, দরজনিয়া, টেইল ফলসহ নেপাল থেকে পানি আসা নদী ও জলপ্রবাহের পানির স্তর ও স্রোত পর্যবেক্ষণ করছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার গ্রামগুলোতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে নদীর কাছে না যাওয়ার, সরকারি সতর্কবার্তা মেনে চলার এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুশীনগরেও গণ্ডক নদীর পানির স্তর বাড়তে থাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহেন্দ্র সিং তানওয়ার ও পুলিশ সুপার কেশব কুমার ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরবর্তী গ্রাম এবং বাল্মীকিনগর ব্যারাজ পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে সীমান্তবর্তী লখিমপুর খেরি, গোন্ডা, বাহরাইচ ও মহারাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় নদীর পানির স্তর ও আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নেপাল থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ার আগাম তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের ২৭ আগস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিহারের মাধবপুরে রাপ্তি নদীর পানি বাড়ছিল। একই প্রবণতা দেখা গেছে সরযূ, কোয়ানো ও সারদা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও। উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায় ঘাঘরা নদীর পানির স্তর সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সেখানে পানি কমছিল।
বিহারের বাল্মীকিনগর ব্যারাজের ৩৬টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, ব্যারাজ থেকে পানির প্রবাহ রাত ৮টায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কিউসেক থেকে বেড়ে রাত ১০টায় ১ লাখ ৪২ হাজার কিউসেকে পৌঁছায়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর একটি দল উদ্ধার সরঞ্জামসহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশ ও প্রাদেশিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পাশাপাশি পানীয় জল, মোবাইল শৌচাগার ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এদিকে নেপালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি মহল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা নেপালে পৌঁছে আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। সূত্র: এনডিটিভি