নেপালে বন্যা

নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদায় ভরা সুড়ঙ্গে আটকে থাকা নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। নেপালের উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের একটি অংশে পৌঁছে সেখানে বাতাস ও অক্সিজেন পাঠাতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভেতরের পরিস্থিতি দেখতে ক্যামেরাও পাঠানো হচ্ছে।

শনিবার উদ্ধারকারীরা ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদায় আটকে থাকা সুড়ঙ্গের ওপরের অংশে ড্রিল করে একটি ছোট পথ তৈরি করেন। ওই পথ দিয়ে এখন সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস পাঠানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজে পরবর্তী ধাপে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারকারী দলকে ভেতরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক এখনো জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী ৩এ ও ৩বি প্রকল্পকে ঘিরেই উদ্ধারকারীদের প্রধান তৎপরতা চলছে। ভয়াবহ বন্যার পর দেশটিতে নিখোঁজ জলবিদ্যুৎকর্মীর সংখ্যা ৯৩৩ জনে পৌঁছেছে।

২৬ আগস্ট হিমবাহ ধস ও বিপুল পরিমাণ কাদা-পাথরের স্রোতে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হয়। বন্যায় সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, কাদা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে নেপাল, ভারত ও চীনের উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। হেলিকপ্টার, ড্রোন, বিশেষায়িত সরঞ্জাম এবং পাহাড়ি উদ্ধারকৌশল ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান চলছে।

বিপর্যয়ের চতুর্থ দিনে নেপাল ও চীনে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৭০০-তে পৌঁছেছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নেপালে একাই ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

তবে সুড়ঙ্গে বাতাস ও ক্যামেরা পাঠানোর সাফল্য নিখোঁজ শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। উদ্ধারকারীরা এখন দ্রুত কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।