থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী পতায়ায় প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনার আগমনকে কেন্দ্র করে যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে স্থানীয় পুলিশ। মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ বুধবার থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে থাকার পর বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য কয়েক দিনের তীরে অবস্থান করবেন। তাদের একটি বড় অংশ পতায়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে শহরের সৈকত, নাইটলাইফ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহান্তে পতায়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ২৯ আগস্ট ২০০-এর বেশি পুলিশ ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা পতায়া বিচ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে আটক করেছিলেন।
পতায়া পুলিশ প্রধান আনেক স্রাথংইউ জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক মার্কিন সামরিক সদস্যের আগমন উপলক্ষে অতিরিক্ত নজরদারি ও টহল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, জনসমক্ষে যৌনকর্মীদের গ্রাহক আকর্ষণের চেষ্টা ঠেকানো পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
থাইল্যান্ডে যৌন ব্যবসা আইনত নিষিদ্ধ হলেও পতায়াসহ দেশটির কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রে এ শিল্প দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান। মার্কিন সেনাদের সঙ্গে পতায়ার সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের অবকাশযাপনের অন্যতম গন্তব্য হয়ে ওঠার পর শহরটির পর্যটন ও বিনোদন শিল্প দ্রুত বিকশিত হয়।
এদিকে মার্কিন নৌসদস্যদের আগমনকে ঘিরে পতায়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন খাতের মন্দার মধ্যে থাকা শহরটি এই সফর থেকে বাড়তি আয় প্রত্যাশা করছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, মার্কিন সামরিক সদস্যদের দৈনিক ব্যয় শহরের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিপুলসংখ্যক বিদেশি সামরিক সদস্যের আগমনে যৌন শোষণ, জনস্বাস্থ্য ও যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিচ্ছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর এই সফর মূলত নাবিক ও মেরিনদের বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার ও রসদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। এটি থাইল্যান্ডের সঙ্গে কোনো যৌথ সামরিক মহড়া নয় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্যের কয়েক দিনের অবস্থান পতায়ার পর্যটন ও ব্যবসায় নতুন গতি আনতে পারে—এমন প্রত্যাশার পাশাপাশি শহরটির দীর্ঘদিনের যৌন পর্যটনকেন্দ্রিক ভাবমূর্তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপও অব্যাহত রয়েছে।