ঘরের ভেতর থেকে চিতা বাঘ উদ্ধার

একটি চিতাবাঘ সোমবার (১ এপ্রিল) ভোরে উত্তর দিল্লির ওয়াজিরাবাদের একটি গ্রামে ঢুকে পরেছিল। এতে ওই এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বন বিভাগের কর্মীদের হাতে ধরা পড়ার আগে আট ব্যক্তিকে আহত করে চিতাবাঘটি। এরপর গ্রামের একটি বাড়িতে ঘরে ঢুকে পরে। পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ অভিযানের পরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাঘটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিল্লির বনমন্ত্রী গোপাল রাই পিটিআই-কে বলেন, কখনও কখনও চিতাবাঘরা পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী অংশ থেকে শহরাঞ্চলে চলে যায়। আমি সংশ্লিষ্টদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছি।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, যমুনা সংলগ্ন জগৎপুর গ্রামে যে চিতাবাঘটিকে দেখা গিয়েছিল তা সম্ভবত নিকটবর্তী যমুনা জীববৈচিত্র্য পার্ক থেকে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। চিতাবাঘটি গ্রামের একটি বাড়ির ঘরে ঢুকে পরে। তার আগে গ্রামের অন্তত আটজনকে আহত করে। উদ্ধারকারী দল বাইরে থেকে ঘরের সিটকিনি আটকে দেয়। 

স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, গ্রামটি জঙ্গলে ঘেরা এবং সেখানে বেড়া বা অন্য কোনো নিরাপত্তা নেই। গত বছরের ১ ডিসেম্বর, দক্ষিণ দিল্লির সৈনিক ফার্মে একটি চিতাবাঘ দেখা গিয়েছিল, কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, বাঘটি রাস্তার গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, তারা সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ফোন পায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি সেখানে পৌঁছায়। চিতাটি একটি বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পাশের ভবনে চলে যায়। সেখানে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চিতাটিকে একটি রুমে আটকে ফেলেন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ভোর সাড়ে চারটায় প্রথম চিতাটি চোখে পড়ে। সকাল সোয়া পাঁচটার দিকে পিসিআরে কল যায়। এটি বেশ কিছু মানুষের ওপর হামলা করতে চেষ্টা করে এবং এদের কেউ কেউ জখম হয়েছে।

ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (উত্তর) এম কে মিনা বলেন, গ্রামে একটি চিতা ঢুকে পড়ার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দেন। সেখানে বন বিভাগের সাতজন ও দিল্লি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের একটি দল ছিল।