হাইকোর্টের রায় স্থগিত

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আপিল শুনানি ১৬ জুন

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

সুপ্রিম কোর্টের জন্য আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি আলাদা ও স্বাধীন সচিবালয় তৈরি করার যে নির্দেশ হাইকোর্ট দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সাথে এই রায়টির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এই আপিল মামলাটি পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া রায়টির কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় চেয়ে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী। যার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন।

পরবর্তীতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় দেন এবং গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। হাইকোর্টের সেই রায়ে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (যেমন: কর্মস্থল ঠিক করা, পদোন্নতি ও ছুটি দেওয়া) এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির হাতে থাকা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধানটি বাতিল করা হয়। ফলে এই দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয় এবং ২০১৭ সালের শৃঙ্খলাবিধিটিও বাতিল হয়ে যায়। এই রায়ের বিরুদ্ধে গত ২১ মে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার এই দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাতেই ছিল। তবে ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এতে ‘সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে’ শব্দগুলো যুক্ত করা হয়। পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপটি সংবিধানে রাখা হয়।

রিটকারীদের আইনজীবীদের দাবি, রাষ্ট্রপতির ওপর এই দায়িত্ব থাকার কারণে পরোক্ষভাবে নির্বাহী বিভাগ অধস্তন আদালতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে।

SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত