কুয়ালালামপুরে ইমিগ্রেশনের অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১৫০

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ইমিগ্রেশন বিভাগের পৃথক দুটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৫০ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে নগরীর চৌকিট ও জালান ক্লাং লামা এলাকায় অবৈধ বসবাস ও কর্মসংস্থানের চিত্র উঠে এসেছে।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, রাজধানীর চৌকিট এলাকায় একটি পুরোনো অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে ৭৯ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ২৩ জন নারী রয়েছেন। ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই অভিযানটি গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসীদের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল।

আটককৃতদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে বৈধ পাসপোর্ট ও কাজের পারমিট না থাকা এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। আটকদের মধ্যে ৩৯ জন ইন্দোনেশিয়া, ২৫ জন বাংলাদেশ, ১০ জন নেপাল, দুজন ভারত, দুজন পাকিস্তান এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসী ও তাদের আশ্রয়দাতা নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘৩৬০ ডিগ্রি’ কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, অধিকাংশ আটক ব্যক্তি নিরাপত্তারক্ষী ও নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। তারা অতিরিক্ত ভিড় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি নাগরিক সিঙ্কের নিচে, পুরোনো জিনিসপত্রের স্তূপে এবং পানির ট্যাংকের ফাঁকে লুকানোর চেষ্টা করেন। আটক এক ইন্দোনেশীয় নাগরিক জানান, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি ভয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

অন্যদিকে, জাল বৈদ্যুতিক ও পানির সংযোগ ব্যবহার করে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ অভিবাসী কলোনিতে অভিযান চালিয়ে আরও ৭১ জনকে আটক করেছে কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। বুধবার ভোরে জালান ক্লাং লামা এলাকায় নিউ পান্তাই এক্সপ্রেসওয়ে (এনপিই)-এর পাশে অবস্থিত এই কলোনিতে অভিযান চালানো হয়।

আটককৃত সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনে মামলা ও তদন্ত চলছে।