আরও ৫ দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নতুন এ তালিকায় রয়েছে সিঙ্গাপুর, সুইডেন, বাহরাইন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এনআইডি অনুবিভাগ ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুরে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং এনআইডির মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল হাসনাত মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা তাঁদের টিমসহ সুইডেনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহও সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত দলের সঙ্গে যোগ দিতে দেশত্যাগ করবেন।
সোমবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে এনআইডির মহাপরিচালক জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ১৫ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের বাহরাইন সফর স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানে আগামী আগস্টের শুরুতে তাঁর ওই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে এনআইডি কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এসব দেশের প্রবাসীরা কনস্যুলার সেবা সুইডেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেন। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে দেশে এনআইডি কার্ড ছাপানো হয় এবং পরে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
এনআইডির মহাপরিচালক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে ধাপে ধাপে ভোটার নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও এ কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন কমিশনের। তবে দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা এখনই এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত নয়। ফলে ফ্রান্সে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
এনআইডিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে বিশ্বের ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, যার বাস্তবায়ন এখনও চলমান। নতুন পাঁচটি দেশ যুক্ত হওয়ায় এখন মোট ১৯টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই সেবার আওতায় আসবেন।