মোবাইল ফোনে মালয়েশিয়া থেকে ভেসে এলো দুঃসংবাদ। যে ফোনে প্রিয়জনের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা, সেই ফোনেই এলো সালমান সাদিক সাইফের (২৪) মৃত্যুর খবর। মুহূর্তেই নেমে এলো বিষাদের ছায়া। যে বাড়িতে কয়েক মাস আগেও ছিল বিয়ের আনন্দ, সেই বাড়িতেই এখন কান্নার রোল। পরিবারের ছোট ছেলে সাইফকে ঘিরে দেখা স্বপ্নগুলো মুহূর্তেই যেন থেমে গেল।
কোরবানির ঈদে দেশে ফিরেছিলেন সাইফ। বাড়িতে তখন আনন্দের আবহ। পরিবারের ছোট ছেলে সাইফকে ঘিরে ছিল নতুন স্বপ্ন। সেই ঈদের ছুটিতেই বিয়ে করেন তিনি।
নতুন সংসার, নতুন জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে আবার ফিরে যান মালয়েশিয়ায়। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই সেই স্বপ্ন থেমে গেল নির্মম এক সড়ক দুর্ঘটনায়। প্রিয় মানুষটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকা পরিবারকে এখন প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তার কফিনবন্দি লাশ গ্রহণের।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার জোহর বারুতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইফ।
নিহত সালমান সাদিক সাইফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ছয়বাড়িয়া গ্রামের মো: সাজন মিয়ার ছেলে। তিনি মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে পণ্য ডেলিভারির কাজ করতেন।
নিহতের একমাত্র বোন লিজা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় সাইফ কাভার্ডভ্যানে করে পণ্য ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় পড়ে উল্টে গিয়ে তাদের কাভার্ডভ্যানের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে চালকের কোনো ক্ষতি না হলেও গুরুতর আহত হন সাইফ। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এক বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সাইফ ছিলেন সবার ছোট। ছোট ভাইটির হাসি-আনন্দেই যেন ভরে থাকত পরিবারের অনেকটা জায়গা। জীবিকার তাগিদে হাজার মাইল দূরের মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমালেও পরিবারের সাথে ছিল তার নাড়ির টান।
গত কোরবানির ঈদে দেশে ফিরে বিয়ে করেছিলেন সাইফ। বিয়ের পর নতুন সংসারকে ঘিরে ছিল অনেক স্বপ্ন, অনেক পরিকল্পনা। সেই স্বপ্নগুলোকে আরো সুন্দর করতে আবারো মালয়েশিয়ায় ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—স্বপ্ন পূরণের আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন মাত্র ২৪ বছরের এই যুবক।
এখন মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে পড়ে আছে সাইফের নিথর দেহ। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়বাড়িয়ায় তার স্বজনদের অপেক্ষা—প্রিয় সাইফ কখন ফিরবে। তবে এবার সে ফিরবে না হাসিমুখে, ফিরবে কফিনবন্দি হয়ে।
বোন লিজার কণ্ঠে তাই শুধু ভাইকে হারানোর বেদনা নয়, দ্রুত শেষবারের মতো ভাইকে কাছে পাওয়ার আকুতি।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের লাশ যেন দ্রুত আমাদের কাছে পাঠানো হয়।’