রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আবারও রাজপথে নামছেন শিক্ষার্থীরা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ স্থাপনের মাধ্যমে গণজমায়েত শুরু করবেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, সাত কলেজকে একটি স্বতন্ত্র স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর একটি খসড়া প্রকাশ করেছিল। এরপর গত ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হবে।
তবে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বা অধ্যাদেশ জারির ঘোষণা না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অন্যতম প্রতিনিধি মো. নাঈম হাওলাদার গত শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজকের এই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আজ সকাল ১১টায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ স্থাপন করা হবে। সেখান থেকেই দিনভর চলবে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী সমাবেশ। আন্দোলনকারীরা আল্টিমেটাম দিয়েছেন যে, আজকের সমাবেশ থেকেই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে আরও কঠোর ও বড় ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তাদের দাবি একটাই—অবিলম্বে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
এর আগে গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকা অবরোধ করায় ঢাকা শহর কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। আজও সায়েন্সল্যাবে গণজমায়েতের কারণে মিরপুর রোড, এলিফ্যান্ট রোড ও ধানমন্ডি এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস হওয়ায় অফিসগামী যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সায়েন্সল্যাব ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ মানুষকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।