ঈদের ছুটিতে জনসমুদ্র কমলাপুর, শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীর মানুষ। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ এবং ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে অনেক যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজারো মানুষ স্টেশনে ভিড় করছেন। উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি। ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ৩১ হাজারের বেশি আসন বরাদ্দ থাকলেও তিল ধারণের জায়গা নেই অনেক ট্রেনে। ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হলেও অনেক যাত্রী টিকিট থাকা সত্ত্বেও নিজ আসনে বসতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেককে ট্রেনের ছাদে এবং গেটে ঝুলে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করতে দেখা গেছে।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। এর মধ্যে মহানগর প্রভাতী ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট, বিজয় এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট, রূপসা এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট এবং জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ২৪ মিনিট বিলম্বে ছেড়েছে। এছাড়াও বনলতা, প্রবাল, সুন্দরবন ও রংপুর এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেন ২০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়েছে। তবে কক্সবাজার ও সুবর্ণা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই ঢাকা ছেড়েছে।

শিডিউল বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। উপকূল এক্সপ্রেসের যাত্রী শাহরিয়ার কবির জানান, বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ ১ ঘণ্টা বিলম্বের কথা জানিয়েছে। একই ট্রেনের যাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসও দীর্ঘ অপেক্ষায় ভোগান্তির কথা জানান।

কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, "এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে দেওয়া হয়েছে। ট্রেনের পরিচ্ছন্নতা ও মাঝপথে বিরতির কারণে কিছু ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে, তবে আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।" রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট সরকার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে ২৭টি পয়েন্টে এক্সেস কন্ট্রোলসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারির দায়ে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

আগামীকাল থেকে গার্মেন্টস ও শিল্প-কারখানা ছুটি হলে স্টেশনে ভিড় আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।