দিয়াবাড়ী হাটে সাড়ে ১১০০ কেজির ‘রাজাবাবু’, দাম ১৮ লাখ

কোরবানির ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় রাজধানীর স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে খামারি ও বিক্রেতারা নানান জাতের ও আকারের গরু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরার দিয়াবাড়ী হাটের ১০ নম্বর শেডে আনা হয়েছে দানবীয় গড়নের এক গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘রাজাবাবু’। সাড়ে ১১০০ কেজি (২৮ থেকে ২৯ মণ) ওজনের এই বিশাল আকৃতির গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা।

আশুলিয়ার ‘অ্যাগ্রো ফার্ম আহমেদ রেঞ্জ’ থেকে আসা হালকা সাদা-গোলাপি আর কালো রঙের এই রাজকীয় গরুটি দেখতে হাটে আসা উৎসুক মানুষের ভিড় জমছে। খামারি মোহাম্মদ তাইজুল ইসলাম জানান, ক্রেতারা ইতোমধ্যে রাজাবাবুর দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলেছেন। তবে ১৫ লাখ টাকা পেলেই তারা গরুটি বিক্রি করে দেবেন।

উক্ত শেডে রাজাবাবু ছাড়াও নেত্রকোনা থেকে আনা ‘আলফা’ এবং ‘শিব্বি উলবারী’ নামের দুটি গরু ১০ লাখ টাকা করে দামে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া এই শেডে ৭ লাখ টাকা দামের মাঝারি গরুর পাশাপাশি সর্বনিম্ন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দেশি গরুরও ভালো সরবরাহ রয়েছে।

দিয়াবাড়ী হাট ঘুরে দেখা যায়, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নাটোর ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারিরা বিপুল পরিমাণ গরু নিয়ে এসেছেন। খামারিরা জানান, সারা বছর সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, কুঁড়া, ভুসি আর সবুজ ঘাস খাইয়ে অত্যন্ত যত্ন সহকারে এই পশুগুলোকে বড় করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার খামারি সামিউল ইসলাম এবং পাবনার সাঁথিয়ার ব্যাপারী রইস উদ্দিন আশা প্রকাশ করেন, ঢাকার মানুষ সাধারণত শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ভালো দামে সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে।

এদিকে হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে র‍্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম এবং ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।