ঢাকার বাস ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা

এক কোম্পানি অধীনে চলাচল করবে ঢাকার গণপরিবহন

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, রাজধানীর প্রতিটি রুটে বাস মালিকদের নিয়ে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে এবং সেই কোম্পানির অধীনে নির্দিষ্ট রঙ, মানসম্মত ফিটনেস ও আধুনিক সুবিধাসহ বাস চলাচল করবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, একই রুটে বিচ্ছিন্নভাবে একাধিক মালিকের বাস আর চলবে না। প্রতিযোগিতার কারণে যাত্রীদের যত্রতত্র ওঠা-নামা, টার্মিনালে না থামা এসব বন্ধ হবে। নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়বে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনালেই থামবে। তিনি আরও জানান, পরিবেশবান্ধব নগর পরিবহন নিশ্চিত করতে ইলেকট্রিক ভেহিকেল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। মালিকরা ইতোমধ্যে কোন রুটে কোন কোম্পানি পরিচালনা করবে তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

ঢাকার ভেতরে যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাস কাউন্টার বন্ধ করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ এড়াতে ধাপে ধাপে নতুন টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল ধীরে ধীরে কাঁচপুরে স্থানান্তরিত হবে, ফুলবাড়িয়া যাবে কেরানীগঞ্জে, গাবতলী স্থানান্তরিত হবে হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী যাবে উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। নতুন ডিপো নির্মাণের কাজ চলছে ৩০০ ফিট এলাকায় এবং কাঁচপুরে। এগুলো প্রথমে ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হবে, পরে পূর্ণাঙ্গ টার্মিনালে রূপান্তরিত হবে।

বর্তমান টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলীতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এজন্য সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আধুনিক টয়লেট, বড় ওয়েটিং রুম, ফ্যান ও আলো, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে। এসব সুবিধা নিশ্চিত করার পর ধাপে ধাপে নতুন টার্মিনালে বাস স্থানান্তর করা হবে।

বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছে। তারা পরিবেশ ও জায়গা পেলে নিজেরাই টার্মিনালের অবকাঠামো তৈরি করতে আগ্রহী। মেট্রোপলিটন পুলিশও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার সব বাস টার্মিনালকে নতুন স্থানে স্থানান্তর করা। এর মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে।