ঢাকার ১২০ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসছে এআই ক্যামেরা

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

রাজধানী ঢাকায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি সময় লাগে। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বের হতে চান না। সকালে অফিসযাত্রা প্রায়শই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে ঢাকার ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে এ প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাস্তবায়নে ডিএমপির সঙ্গে যুক্ত থাকবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। 

গত সোমবার (১৫ জুন) প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নবিষয়ক এক সভায় এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপির সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন কার্যক্রমে অংশ নেবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। প্রধান সড়কগুলোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ বা বিশেষ তহবিলের প্রয়োজন হবে না। পুলিশের নিজস্ব তহবিল থেকেই ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।

এর আগে, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) দেশীয় প্রযুক্তিতে এসব সিগন্যাল বাতি তৈরি করে।

সিগন্যালগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এবং পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

চলতি বছরের ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এসব পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে ডিএমপি। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্তে বিশেষ সফটওয়্যার যুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকায় ট্রাফিক সিগন্যালের ইতিহাস অবশ্য খুব আশাব্যঞ্জক নয়। ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে প্রথম ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয় ১৯৬০-এর দশকে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে।

পরে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ৬৮টি স্থানে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হলেও সেগুলো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি এবং ২০০৯ সালের মধ্যে অচল হয়ে যায়।

এ ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরও ৯১টি মোড়ে সিগন্যাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, যা কার্যকর করা যায়নি। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জাইকার ঋণে চারটি মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিগন্যাল স্থাপন করা হলেও সেগুলোও কিছুদিন পর অকার্যকর হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন