ভূমিকম্পে ঢাকার ভবন ধসের চেয়ে বড় আতঙ্ক ‘দেবে’ যাওয়া

ঢাকা মহানগরের বেশির ভাগ ভবন জলাভূমি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে, নিচু এলাকায় স্থাপনা গড়ে উঠেছে এবং এমন সব বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলো হয়তো বড় ভূমিকম্প সামলাতে পারবে না। একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প রাজধানীতে  শুধু ব্যাপক ভবন ভেঙেই পড়বে না বহু ভবন দেবে যাওয়াও প্রবণতা রয়েছে।

ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পে ঢাকায় ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার চেয়ে মাটির নিচে দেবে যাওয়া বা একপাশে হেলে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অপর্যাপ্ত মাটির পরীক্ষার কারণে এই ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

লিকুইফিকশান পোটেনশিয়ালিটির উপর ঢাকাকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছে বুয়েটের গবেষণা যেখানে লাল চিহ্নিত অংশ সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ, গোলাপীগুলো মধ্যম ও নীল অংশ কম ঝুঁকিপূর্ণ।

লাল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে হজরতপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, তেঘরিয়া, কোন্ডা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, কালাগাছিয়া, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, বন্দর, মোগরাপাড়া, নারায়ণগঞ্জ সদর, বক্তাবলী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির কিছু অংশ, নিউমার্কেট, লালবাগ, মদনপুর, দুমনি, বাড্ডা, পাথালিয়ার কিছু অংশ, আশুলিয়া, কাটাবল্লী এবং দারুস সালাম।

গোলাপি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কোনাবাড়ি, ইয়ারপুর, হরিরামপুরের কিছু অংশ, বিরুলিয়া, পৌরসভা এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, পল্লবী, গুলশান, রূপগঞ্জ, ভুলতা, খিলগাঁও, কাফরুল ও দক্ষিণখানের কিছু অংশ, আদাবর, তেজগাঁও, রামপুরা, মতিঝিল, ডেমরা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, কদম রসুল পৌরসভা, মুসাপুর, ফতুল্লা ও হাজারীবাগের কিছু অংশ, সাদিপুর, কাঁচপুর এবং পল্টন।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘রাজউকে’র (RAJUK) আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের জরিপ অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রায় ২১ লাখ ভবনের মধ্যে বড় মাত্রার (৭ বা তার বেশি) ভূমিকম্পে প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়ার বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পুরান ঢাকা এবং অপরিকল্পিত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে একটি ভবনের গা ঘেঁষে আরেকটি ভবন গড়ে ওঠায় একটি ভবন ধসে পড়লে তা ডমিনো এফেক্টের মতো অন্য ভবনগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।