পৃথক থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি বনশ্রীবাসীর

ঢাকার দ্রুত বর্ধনশীল আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা বনশ্রীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘বনশ্রী থানা’ নামে একটি স্বতন্ত্র থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বনশ্রীর নানজিং কমিউনিটি সেন্টারে রামপুরা থানা ও বনশ্রী সোসাইটি আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়। একই সাথে এলাকার ফুটপাত থেকে ভাসমান দোকান উচ্ছেদ এবং সার্বিক নিরাপত্তার মানোন্নয়নের আহ্বান জানান বক্তারা।

বনশ্রী সোসাইটির সভাপতি শাহাবুদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার তৌফিক আহমেদ, রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে বনশ্রী ও রামপুরা এলাকায় প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী এই এলাকায় যাতায়াত করেন। জনসংখ্যা ও বসতির ব্যাপক বিস্তারের কারণে এখানে চুরি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, সাইবার অপরাধ ও যানজটের মতো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।বর্তমানে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পুলিশি সেবার জন্য রামপুরা ও খিলগাঁও থানার ওপর নির্ভর করতে হয়। এলাকার বিস্তৃতি ও অপরাধ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এখানে একটি পৃথক থানা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বনশ্রী সোসাইটির সদস্যরা বিভিন্ন নাগরিক ও নিরাপত্তা সমস্যা তুলে ধরলে পুলিশ প্রশাসন সোসাইটির কার্যনির্বাহী পরিষদকে সাথে নিয়ে তা সমাধানের আশ্বাস দেয়। সভায় উপস্থিত বনশ্রীবাসী সর্বসম্মতিক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি দ্রুত পৃথক থানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সবশেষে বনশ্রী সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল মো. রেজাউল করিম নিরাপদ ও বাসযোগ্য বনশ্রী গড়ে তুলতে নাগরিক সমাজ ও পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।