অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

একই সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের তৎপরতা, মাদক, জমি দখল এবং আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউসে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে বিশেষভাবে নজরদারি প্রয়োজন। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের অনেক সদস্য রাজধানীতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে দাবি করে তিনি বলেন, তারা যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, রাজধানী ও এর আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মাদক ও জমি দখলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউসসহ বিভিন্ন স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ কারণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়াতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসনের কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিভিল সার্জন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।