বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকার পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টায় রাজধানীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ১৬৯, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল সপ্তম।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় ২০৭৭ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। পাকিস্তানের লাহোর ১৯৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয়, ভারতের কলকাতা ১৮৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয়, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনশাসা ১৮৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ভারতের দিল্লি ১৮২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল।
AQI মূলত কোনো এলাকার বাতাস কতটা দূষিত এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা দেয়। সূচকে শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোরকে ভালো, ৫১ থেকে ১০০ সহনীয় বা মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে AQI নির্ধারণে বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2), কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) ও ওজোন (O3)—এই পাঁচ ধরনের দূষণকারী উপাদান বিবেচনা করা হয়।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
বায়ুদূষণ দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের সঙ্গে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD), ফুসফুসের ক্যানসার ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে বায়ুদূষণ সংশ্লিষ্ট।