শাহজালাল বিমানবন্দরসহ রাজধানীর ছয় স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার গোলচত্বরে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত পৌনে ১২টার দিকে বিমানবন্দরের গোলচত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা উড়ালসেতু থেকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এদিকে একই রাতে রাজধানীর আরও চারটি এলাকায় ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খিলগাঁও, আদাবর, শাহবাগ, বিমানবন্দর ও মিরপুরের কালশী এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে।

রাত ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে খিলগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের ভেতরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে আদাবর থানার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শাহবাগের আইবি গেটের সামনে পুলিশের ডিউটি গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর গোলচত্বরে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে শাহবাগের জুলাই চত্বরের পাশেও আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মিরপুরের কালশী মোড়েও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

এসব ঘটনার পাশাপাশি প্রগতি সরণীর কোকাকোলা ক্রসিং এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাসটি সাভার-নতুন বাজার রুটে চলাচল করত। যাত্রী নামানোর পর বাসটিতে আগুন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তবে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানের বিস্ফোরণ এবং বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।