মেট্রোরেলে যাত্রী সবচেয়ে বেশি মিরপুর-১০, কম উত্তরা দক্ষিণ: ডিএমটিসিএল

ঢাকার মেট্রোরেলে যাত্রী চলাচলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি যাত্রী ওঠে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশন থেকে। চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেছে এক কোটিরও বেশি যাত্রী। অন্যদিকে সবচেয়ে কম যাত্রী ব্যবহার করেছে উত্তরা দক্ষিণ স্টেশন।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষ জানায়, চালুর পর থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি ৭৫ লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করেছে। এর মধ্যে মিরপুর-১০ স্টেশন থেকে যাতায়াত করেছে সর্বোচ্চ এক কোটি ৭৮ লাখের বেশি যাত্রী।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, 'এই পথটি ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তাই মিরপুর-১০ স্টেশনে যাত্রীর চাপ স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচল আরও ঘন ঘন করার পরিকল্পনা রয়েছে।'

ডিএমটিসিএল সূত্র বলছে, উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনটি পল্লবী ও উত্তরা মধ্য স্টেশনের মাঝামাঝি অবস্থিত। আশপাশে তেমন বাসাবাড়ি বা বাণিজ্যিক স্থাপনাও নেই, তাই যাত্রী সংখ্যা খুবই কম। এ পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ১১ লাখ যাত্রী এ স্টেশন ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, বিজয় সরণি স্টেশনে যাত্রীসংখ্যা ২৬ লাখের মতো। মোহাম্মদপুর বা লালমাটিয়া এলাকা থেকে এ স্টেশনে পৌঁছানোর মতো গণপরিবহন না থাকাই এর মূল কারণ।

মিরপুর-১০ ছাড়াও এক কোটির বেশি যাত্রী চলাচল করেছে উত্তরা উত্তর, মতিঝিল, আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার ও বাংলাদেশ সচিবালয় স্টেশন দিয়ে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ যাত্রী (প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ) যাতায়াত করেছে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে। মতিঝিল স্টেশন থেকেও যাত্রী সংখ্যা ১ কোটি ৬৯ লাখ ছাড়িয়েছে।

ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা জানাচ্ছে, উত্তরা উত্তর থেকে মেট্রোরেল চালু হয়েছিল প্রথম দিন থেকেই, আর মতিঝিল স্টেশন চালু হয়েছে প্রায় এক বছর পরে। তাই যাত্রীসংখ্যায় এখনও উত্তরা উত্তরের অগ্রগণ্যতা রয়েছে। তবে দৈনিক হিসাবে এখন মতিঝিল স্টেশনের যাত্রী তুলনামূলক বেশি।

মেট্রোরেলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ যাত্রী পরিবহন হয়েছে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, বিশেষ করে ২৭ ফেব্রুয়ারি এক দিনে ৪ লাখ ২৪ হাজার ৪৮১ জন যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করেছে। বইমেলা ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ওই সময় যাত্রী বেড়ে যায় বলে মনে করছে ডিএমটিসিএল।

বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করে। ট্রেনগুলো দিনে প্রতি ৮ থেকে ১০ মিনিট পরপর ছাড়ে। শুক্রবার ও ছুটির দিনগুলোতে ট্রেন চলাচলের সময় ও বিরতিতে কিছুটা পরিবর্তন থাকে।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে ২৪ সেট মেট্রো ট্রেন, যার মধ্যে ১৪টি নিয়মিত চলাচল করে। তবে প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, দিনে প্রায় সাড়ে তিন মিনিট পর পর একটি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা রয়েছে মেট্রোরেলের। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো বা মধ্যরাত পর্যন্ত চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ গোলচত্বরে সহিংসতার ঘটনায় স্টেশন ভাঙচুর হয়, আগুন দেওয়া হয় পুলিশ বক্সে। ফলে ডিএমটিসিএল ৩৭ দিন মেট্রোরেল বন্ধ রাখে। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ স্টেশন পুনরায় চালু করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন বক্তব্য ছিল, স্টেশন দুটি চালু করতে এক বছর লাগবে এবং ব্যয় হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তবে প্রকৌশলীরা মাত্র ২০ কোটি টাকার কম ব্যয়ে নিজস্ব রিসোর্স ব্যবহার করে দ্রুত মেরামত করে স্টেশন চালু করতে সক্ষম হন।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে টিকিট বিক্রি থেকে মেট্রোরেলের আয় হয়েছে প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল মাত্র ২২ কোটি টাকা। ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, যদি লোকবল বাড়ানো ও ট্রেন চলাচলের সময় সম্প্রসারণ করা যায়, তবে যাত্রীসংখ্যা ও রাজস্ব আয় আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।