কালবৈশাখীর তাণ্ডব

সারাদেশে বজ্রপাতে ১৫ জনের প্রাণহানি

সারাদেশে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জে দুইজন, জামালপুরে দুইজন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুইজন, বগুড়ায় একজন, নাটোরে একজন এবং পঞ্চগড়ে একজন ও শেরপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২ জন।

নিচে জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হলো:

গাইবান্ধা: 
জেলাটিতে আজ সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। বিকেল চারটার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে চারজন বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় আরও একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বজ্রপাতে একটি গরুও মারা গেছে।

সিরাজগঞ্জ: 
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় এক কৃষক ও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াশের মাধাইনগর ইউনিয়নে ধান কাটার সময় কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) এবং রায়গঞ্জের মল্লিকচান এলাকায় ধান গোছানোর সময় হাসান শেখ (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়।

ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরের দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

নাটোর:
নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলে ধান কাটার সময় সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির সময় তিনি মাঠের একটি ঘরে আশ্রয় নিলে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। নিহত সম্রাট সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকার বাসিন্দা।

বগুড়া:
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল পৌনে চারটার দিকে মুচিখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

জামালপুর:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় বাড়িতে রান্নার কাজ করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য স্থানে আরও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামের এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার সকালে ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের একটি চা-বাগানে পাতা সংগ্রহের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত সারওয়ারদ্দী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের আবু সামাদের ছেলে। আহতরা হলেন-একই এলাকার মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩)। বর্তমানে তারা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের মো. দুলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেরপুর
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ইসলামি ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক মো. আবুল হাসান (৪০) মারা গেছেন। রোববার দুপুরে ধানশাইল ইউনিয়নের পূর্ব চাপাঝোড়া তালতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আল আমিন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই আবুল হাসানের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলায় বজ্রাপাতে দুই নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তারা হলেন সুফিয়া আক্তার (২২) ও ফারাহ আক্তার (২২)। তারা উভয়েই রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বজ্রপাতে আহত দুই শিক্ষার্থীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির মেঘমালা সক্রিয় রয়েছে। এমন অবস্থায় খোলা আকাশ বা গাছের নিচে না থেকে সবাইকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।