৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে দেশজুড়ে অতি ভারী বর্ষণে নদ-নদীতে পানি বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চারটি প্রধান নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে এবং আরও তিনটি জেলায় বন্যার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম বড়ুয়া জানান, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত। এছাড়া সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল যেকোনো সময় প্লাবিত হতে পারে। নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এই জেলাগুলোতে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে বইছে:
১. ভোগাই-কংস (নেত্রকোনা): বিপৎসীমার ৯৩ সেমি ওপরে।
২. সোমেশ্বরী: বিপৎসীমার ৬৩ সেমি ওপরে।
৩. মগরা (নেত্রকোনা): বিপৎসীমার ৩৮ সেমি ওপরে।
৪. সুতাং (হবিগঞ্জ): বিপৎসীমার ৩ সেমি ওপরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাত শুক্রবার পর্যন্ত অতি ভারী আকারে চলতে পারে। এমনকি আগামী সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে হাতিয়ায় (১০৫ মিমি)। এছাড়া ময়মনসিংহে ১০৪, নেত্রকোনায় ১০১ এবং খেপুপাড়ায় ৯৯ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যথাক্রমে ৪৫ ও ৪৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

বজ্রমেঘের ঘনঘটা বেড়ে যাওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতাসংকেত বহাল রাখা হয়েছে। মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।