কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যা: অবশেষে জনির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ইসমাইল হোসেন জনি (২৮) অবশেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামির সবারই জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হলো।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির কাছে জনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, বুলেট বৈরাগী হত্যায় জড়িত অপর চারজন আগেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও জনি সরাসরি জড়িত থেকেও প্রথমে মুখ খোলেননি। পরে পুলিশ তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আজ তাকে আদালতে তোলা হলে তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনিং শেষ করে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন বুলেট বৈরাগী। রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে সর্বশেষ পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি কুমিল্লার টমছমব্রিজ চৌরাস্তায় পৌঁছেছেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী হাড়াতলী এলাকার একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) পদে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার সুশীল বৈরাগীর ছেলে। কুমিল্লা কাস্টমস অফিসে কর্মরত এই কর্মকর্তার ১ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গত ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পাঁচজনই এখন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।