৭ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা

দেশের মধ্যাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় টানা ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সাতটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

সোমবার (৪ মে) প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, সুনামগঞ্জের নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোনার অবস্থা সবচেয়ে নাজুক; সেখানকার বাউলাই নদী ৮ সেমি, ভুগাই-কংস ৬৭ সেমি, সোমেশ্বরী ৫০ সেমি এবং মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টে ৭৯ সেমি ও আটপাড়া পয়েন্টে ২৭ সেমি ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া হবিগঞ্জের কালনি-কুশিয়ারা ১০ সেমি এবং সুতাং নদী বিপৎসীমার রেকর্ড ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার নদীগুলো বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও হাওর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু ও খোয়াই নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সর্তকসীমায় পৌঁছাতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে হাতিয়ায় ১২৪ মিলিমিটার। এছাড়া নেত্রকোনায় ৭১, মাইজদীকোর্টে ৪৮, রাঙ্গামাটিতে ৪৬ এবং সিলেটে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ প্রায় সব বিভাগেই আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে এবং গবাদি পশুপাখির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।