টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অকাল বন্যার আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে ৫টি নদীর পানি ৬টি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা হাওর অঞ্চলের বোরো ফসল ও নিম্নাঞ্চলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোববার (৩ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিশেষ বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিপৎসীমার ওপরে যেসব নদী
সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, হাওর বেসিনের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে:
ভোগাই-কংশ (জারিয়াজঞ্জাইল): বিপৎসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার ওপরে।
মগরা (নেত্রকোনা): বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপরে।
সোমেশ্বরী (কলমাকান্দা): বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপরে।
সুতাং (রেলব্রিজ): বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে।
নলজুর নদী (জগন্নাথপুর): বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপরে।
মগরা (আটপাড়া): বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে।
পাউবো জানিয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন ধারাবাহিকভাবে বাড়বে। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করে হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় পানি প্রতি ঘণ্টায় ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার হারে বাড়ছে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, জুড়ি, খোয়াই ও সুতাং নদীর পানিও বাড়ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জুড়ি ও খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। নেত্রকোনার বাউলাই নদীর পানি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করার শঙ্কা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীমঙ্গলে ৬২ মিলিমিটার এবং হবিগঞ্জে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। উজানে অতিভারী বৃষ্টির কারণে পানি হু হু করে বাড়ছে। এতে আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে হাওরপাড়ের কৃষকদের।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও সংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি গবাদিপশু ও ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা