পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জামালপুর জেলাজুড়ে এখন আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে ময়না এগ্রো ফার্মের বিশাল আকৃতির গরু ‘ক্রিস গেইল’। জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকায় অবস্থিত এই খামারের ২৬টি গরুর মধ্যে ৮০০ কেজি ওজনের এই গরুটিই এখন আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। নেপালি ‘গির’ জাতের এই গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ টাকা।
খামারের মালিক মো. দিয়া মিয়া (৩৫) জানান, তিনি বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। সেই ভালোবাসা থেকেই তিন বছর আগে যখন মাত্র ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে ৬ মাস বয়সী এই গরুটি কিনেছিলেন, তখনই এর নাম রেখেছিলেন ‘ক্রিস গেইল’। তিন বছর ধরে সযত্ন লালন-পালনের পর বর্তমানে গরুটি উচ্চতায় ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি এবং লম্বায় ৬ ফিট ৬ ইঞ্চি। গাঢ় লালচে-বাদামী রঙের এই গরুটির গায়ে রয়েছে কালো ও বাদামী বিন্দু এবং পেছনের দিকে বাঁকানো ছোট শিং।
‘ক্রিস গেইলকে’ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। খামারের কর্মচারী ইমরান হোসেন জানান, প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুই দফায় গরুটিকে মোট ২০ কেজি সাইলেজ, ১৪ কেজি ঘাস এবং ৩ কেজি গমের ভুসি খাওয়ানো হয়। বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে নিয়মিত তাকে গোসল করানো হয়। ইমরান আবেগের সুরে বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই গরু দেখাশোনা করি। সারা বছর এদের খাওয়াই, গোসল করাই। কোরবানির সময় যখন এগুলো বিক্রি হয়ে যায়, তখন সন্তানের মতো মায়া লাগে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘ক্রিস গেইল’ কিছুটা রাগী স্বভাবের হলেও মালিক দিয়া মিয়ার প্রতি অত্যন্ত অনুগত। দিয়া মিয়া যখনই গরুটির বিক্রির জন্য দামাদামি করেন, তখনই তার চোখ দিয়ে পানি ঝরতে দেখা যায়। দিয়া মিয়া বলেন, ক্রিস গেইল অনেক মায়াবী। আমি ওকে কখনো বেত দিয়ে আঘাত করতে দেইনি। ওর সামনে কেউ দামাদামি করলে যেমন ওর চোখ দিয়ে পানি পড়ে, আমারও তেমনি খারাপ লাগে। ও যখন আমার খামার থেকে চলে যাবে, তখন আমার কেমন লাগবে তা একমাত্র আমিই জানি।
গরুটি দেখতে এবং কিনতে প্রতিদিন অনেক ক্রেতা ভিড় করছেন। তবে মালিক ৬ লাখ টাকা প্রত্যাশা করলেও ক্রেতাদের কেউ এখনো সেই দামে পৌঁছাতে পারেননি। আব্বাস বেপারি নামের একজন ক্রেতা জানান, গরুটি ভালো জাতের ও মাংসল হলেও মালিকের চাওয়া দামে কিনে পরবর্তীতে লাভ করা কঠিন হবে। তবে মালিক দিয়া মিয়া প্রত্যাশিত দামের জন্য ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. এ.টি.এম হাবিবুর রহমান জানান, তারা ময়না এগ্রো ফার্মের এই বড় গরুটি সম্পর্কে জানেন এবং মেডিকেল টিম পাঠিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন। তিনি আরও জানান, জামালপুর জেলায় এ বছর মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি কোরবানির পশু প্রস্তুত আছে, যেখানে জেলার চাহিদা ৮২ হাজার ১৫টি। উদ্বৃত্ত প্রায় ২৫ হাজার পশু ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠানো সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন হজ পালনের ছুটিতে থাকায় ডা. হাবিবুর রহমান ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রাকৃতিক লালন-পালন আর মালিকের নিবিড় ভালোবাসায় বড় হওয়া এই ‘ক্রিস গেইল’ শেষ পর্যন্ত কত দামে বিক্রি হয়, তা দেখতে এখন উৎসুক সাধারণ মানুষ।