নিখোঁজের একদিন পর শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান লাকসামে উদ্ধার

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় একদিন পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। 

 

শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্রাইব্যুনাল-১ এর পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন। তিনি জানান, জিসানকে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পর থেকে জিসান আহমেদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে জিসান প্রধান তার বাবাকে ফোন করে জানান যে তিনি দাউদকান্দি পৌঁছেছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়িতে ফিরবেন। তবে রাত ৮টা ২৯ মিনিটে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে সর্বশেষ অনলাইন দেখা যায়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় । একই সাথে তার ফেসবুক আইডিও ডিঅ্যাক্টিভ হয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পর তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

 

নিখোঁজের ঘটনায় শুক্রবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জিসান আহমেদকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারের দাবি জানান।

 

এদিকে রাত ১০টার দিকে লাকসাম জংশন এলাকায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছালেন, নিখোঁজ থাকার সময়ে তার সাখে কী ঘটেছে এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি কেন হয়েছে—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জিসান আহমেদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জিসান আহমেদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।